আল্লাহর হুকুম প্রত্যাখ্যানের অনিবার্য পরিণতি

আদিবা ইসলাম
পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ নামাজ পড়ছে, রোজা রাখছে, হজ্জ করছে, বিভিন্ন ইবাদত/বন্দেগি/উপাসনা করছে। কিন্তু পৃথিবী আজ অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ, রক্তপাতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। যতই দিন যাচ্ছে মানুষের অধঃপতন কেবল বেড়েই চলেছে। যেন কোনো এক গজবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মানুষ। আমরা পবিত্র কোর’আনে মানুষ সৃষ্টির সময়কার ঘটনা জানতে পাই যে, আল্লাহ যখন তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মানুষ সৃষ্টি করতে চাইলেন তখন মালায়েকরা বললেন আপনার এই নতুন সৃষ্টি তো পৃথিবীতে ফাসাদ (অন্যায়, অবিচার) ও সাফাকুদ্দিমা (যুদ্ধ, রক্তপাত) করবে। (বাকারা: ৩০) আশ্চর্যের বিষয় দেখুন- সেটাই সত্য হয়েছে। পৃথিবী এখন ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমায় পরিপূর্ণ।
মালায়েকরা কিন্তু এ কথা বললেন না যে মানুষ নামাজ পড়বে না, রোজা রাখবে না, ইবাদত বন্দেগি করবে না, জিকির করবে না ইত্যাদি। এর একটাও বললেন না, তারা বললেন যে মানুষ পৃথিবীতে ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমা করবে অর্থাৎ মানবজাতি বর্তমানে যা করছে, অন্যায়-অশান্তি রক্তপাতে ডুবে আছে। তার মানে মানুষের মূল সমস্যা ঐ ইবাদত-বন্দেগিতে নয়, মূল সমস্যা তার শান্তিতে বসবাস করায় এবং কোন প্রক্রিয়ায় মানুষ পৃথিবীর এই অন্যায়-অশান্তি থেকে মুক্তি পাবে তার উপায় বলতে গিয়েও আল্লাহ কোর’আনে ইবাদত-বন্দেগির কথা না বলে তাঁর প্রেরিত হেদায়াহ মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। হেদায়াহ হচ্ছে তওহীদ, আল্লাহকে একমাত্র হুকুমদাতা হিসেবে গ্রহণ করে নেওয়া। আল্লাহর হুকুম ছাড়া অন্য কারো হুকুম না মানা। এই কথায় যারা থাকবে অর্থাৎ আল্লাহর দেখানো সরল পথে থাকবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, তাদের ভয় নেই আর তারা চিন্তিতও হবে না। (বাকারা: ৩৮) পক্ষান্তরে আল্লাহকে একমাত্র হুকুমদাতা হিসেবে গ্রহণ না করলে কী পরিণতি হতে পারে তারও দৃষ্টান্ত কোর’আনে বর্ণিত হয়েছে।
আদম সৃষ্টির পর আল্লাহ সমস্ত মালায়েককে হুকুম করেছিলেন আদমকে সেজদাহ করতে। সমস্ত মালায়েক সেজদাহ করলেও ইবলিস সেজদাহ করল না, অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম অমান্য করল। ফলে সে বিতাড়িত ও অভিশপ্ত হয়ে গেল। তারপর আদম (আ.) যখন আল্লাহর একটি হুকুম অমান্য করলেন তিনিও শাস্তিস্বরূপ জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নির্বাসিত হলেন। কোর’আনে আল্লাহ বলেন, যারা আল্লাহর হুকুম দিয়ে ফয়সালা করে না তারা কাফের (মায়েদা: ৪৪)। অথচ বর্তমানে মানবজাতি আল্লাহকে হুকুমদাতা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে নিজেরা মনগড়া জীবনব্যবস্থা রচনা করে জীবন পরিচালনা করছে, যার অনিবার্য পরিণতিতে আজ মানুষ অন্যায়-অশান্তি অবিচার, রক্তপাত-হানাহানিতে ডুবে আছে, পৃথিবীকে নরকে পরিণত করেছে। কোনো ইবাদত-উপাসনা, নামাজ রোজা কোনোকিছুতেই এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলছে না।
এমতাবস্থায় মানবজাতি যদি এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চায়, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে আল্লাহকে একমাত্র (ইলাহ) হুকুমদাতা হিসেবে মেনে নেওয়ার বিকল্প নেই। ইবাদত উপাসনা অবশ্যই লাগবে, কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে, ঈমান ছাড়া আমলের কোনো মূল্য নেই। যারা তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হলেন অর্থাৎ ঈমান আনলেন তাদের জন্য আমল প্রযোজ্য। আমরা বর্তমানে আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেই নিজেদেরকে ঈমানদার ভেবে বোকার স্বর্গে বাস করি, অথচ আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস মোশরেক আরবদেরও ছিল, কিন্তু তারা আল্লাহর হুকুম মানত না, হুকুম মানত তাদের সমাজের গোত্রপতি ও ধর্মব্যবসায়ী পুরোহিতদের! আমরা যেমন হুকুম মানি পশ্চিমা বস্তুবাদী দাজ্জালীয় সভ্যতার।

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ