আমাদের সংগ্রাম কীসের লক্ষ্যে

মো. মশিউর রহমান

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই ধর্মবিশ্বাসী। তাদের ঈমানী চেতনাকে ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি বারবার ভুল খাতে প্রবাহিত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে এবং দেশে হানাহানি, দাঙ্গা, অপরাজনীতি ও জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এভাবে একটি সমাজ যখন অন্যায় অশান্তিময় হয় তখন সমাজকে শান্তিময় রাখা কেবল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব হয় না, তখন স্বার্থ ভুলে জাতির জন্য ভূমিকা রাখা সমাজের প্রতিটি মানুষের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহর শেষ রসুল (স.) এবং তাঁর সাহাবিগণ জাহেলিয়াতে পূর্ণ পৃথিবীর যাবতীয় অন্যায় অবিচার দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের সম্পদ ও শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত নিঃশেষ করে গেছেন।

আমাদের দেশও বর্তমানে চরম অশান্তিতে নিমজ্জিত। এই সময়ে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের পন্নী পরিবারের সন্তান হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা, এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী এ অশান্তি দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নিজের জীবন ও সম্পদ ব্যয় করে গেছেন, আমরাও একই লক্ষ্যে সংগ্রাম করে যাচ্ছি।

আমরা বলছি, মানবতাই হচ্ছে সকল ধর্মের মূল। বর্তমানে প্রতিটি ধর্ম থেকে এই মানবতার শিক্ষা হারিয়ে গেছে। মানুষের দুই জীবনের শান্তির জন্য আল্লাহ ইসলাম নামক যে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থাটি পাঠিয়েছেন সেটি এখন ব্যক্তিগত উপাসনা, আচার-আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পরকালকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। আজ বিশ্বজুড়ে মানবতা বিপন্ন, হানাহানি, অবিশ্বাস, প্রতিহিংসার আগুন জ্বলছে সর্বত্র, কিন্তু এই অশান্তির আগুন নেভাতে ধর্ম ও ধর্মপ্রাণ মানুষগুলো কেন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না, সেটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? দাঙ্গা-হাঙ্গামায় লিপ্ত, অশিক্ষা, কুসংস্কারে নিমজ্জিত আরবদেরকে প্রকৃত ইসলাম এমন একটি জাতিতে পরিণত করেছিল যারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে, সামরিক ও আর্থিক শক্তিতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল। একজন যুবতী সারা দেহে অলঙ্কার পরিহিত অবস্থায় নির্ভয়ে শত শত মাইল পথ অতিক্রম করত; মাসের পর মাস আদালতে অপরাধ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আসতো না; সারাদিন খুঁজেও দান গ্রহণ করার মতো কাউকে পাওয়া যেত না। এটাই হচ্ছে প্রকৃত ইসলামের ফল। এমন একটি সমাজ সৃষ্টির জন্য কাজ না করে যত নামায, রোযাই করা হোক, সবই অর্থহীন। যে ঈমান দুনিয়াতে নিপীড়িত মানুষের মুক্তি ও শান্তির কাজে লাগে না সে ঈমান আখেরাতেও জান্নাত দিতে পারবে না। আল্লাহই বলেছেন, যার দুনিয়ার জীবন সুন্দর, তার আখেরাতও সুন্দর (সুরা বাকারা ২০১)।” বর্তমানে এ জাতির ঈমান, আমল সবই পরকালীন সুখের আশায় অথচ তাদের দুনিয়ার জীবন দুর্দশায় পূর্ণ। এর কারণ তাদের ধর্মবিশ্বাসকে ভুল পথে চালিত করা হচ্ছে। যদি মানুষের ঈমানকে সঠিক পথে পরিচালিত করা যায় তা হলে তা জাতির উন্নতি-প্রগতি-সমৃদ্ধির কাজে লাগবে। এজন্য প্রথমেই ধর্মের কয়েকটি মৌলিক বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে হবে।

ধর্ম কী? ধার্মিক কারা?

ধর্ম শব্দের অর্থ ধারণ করা। কোনো বস্তু, প্রাণী বা শক্তি যে বৈশিষ্ট্য ধারণ করে সেটাই হচ্ছে তার ধর্ম। আগুনের ধর্ম পোড়ানো, পোড়ানোর ক্ষমতা হারালে সে তার ধর্ম হারালো। তাহলে মানুষের ধর্ম কী? প্রচলিত ধারণা হচ্ছে যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট লেবাস ধারণ করে সুরা কালাম, শাস্ত্র মুখস্থ বলতে পারে, নামায-রোযা, প্রার্থনা করে সে-ই ধার্মিক। কিন্তু আসলে তা নয়। মানুষের প্রকৃত ধর্ম হচ্ছে মানবতা। অর্থাৎ যে ব্যক্তি অন্যের দুঃখ-কষ্ট নিজ হৃদয়ে অনুভব করে এবং সেটা দূর করার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালায় সে-ই ধার্মিক।

এবাদত কী?

আল্লাহর এবাদত করার জন্যই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে (সুরা যারিয়াত ৫৬)। যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেই কাজটি করাই তার এবাদত। যেমন- সূর্য সৃষ্টি করা হয়েছে আলো ও তাপ প্রদানের জন্য, সূর্য যখন তা করে সে তার এবাদত করে। একইভাবে আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে (সুরা বাকারা-৩০)। অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর সমগ্র সৃষ্টিকে যেভাবে সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ করে রেখেছেন ঠিক সেভাবে এ পৃথিবীকেও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখার জন্যই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এটাই মানুষের এবাদত।

ধরুন আপনি গভীর রাত্রে প্রার্থনায় মগ্ন। হঠাৎ পাশের বাড়ি থেকে ‘আগুন আগুন’ বলে আর্তচিৎকার ভেসে এল। আপনি কী করবেন? দৌড়ে যাবেন সাহায্য করতে নাকি চোখ-কান বন্ধ করে প্রার্থনা চালিয়ে যাবেন? আগুন নেভাতে যাওয়াটাই হবে আপনার এবাদত। আর যদি ভাবেন- বিপন্ন ব্যক্তি অন্য ধর্মের লোক, তাহলে আপনার মধ্যে মানুষের ধর্ম নেই, আপনার নামায-রোযা, প্রার্থনা সবই অর্থহীন। আজকাল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দান করতে ওয়াজ করে উদ্বুদ্ধ করা হয় কিন্তু কোনো জাতীয় কল্যাণকর কাজে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করা হয় না। এবাদতের সঠিক অর্থ না বোঝার কারণে নির্যাতিতের হাহাকার, ক্ষুধার্তের ক্রন্দনও মহা ধার্মিকদের কানে প্রবেশ করে না। এগুলোকে তারা দুনিয়াবি কাজ বলে এড়িয়ে চলেন।

এখন প্রশ্ন হলো, নামায, রোযা, হজ্ব ইত্যাদি পালনের শর্ত কী? সেটা হচ্ছে (১) এগুলো পালনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার শারীরিক সক্ষমতা, আত্মিক শক্তি সবার থাকে না। এই সক্ষমতা ও শক্তি অর্জনের প্রশিক্ষণ হচ্ছে নামায, রোযা, হজ্ব ইত্যাদি। যে ব্যক্তি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য জীবন ও সম্পদ দ্বারা সংগ্রাম করবে না, তার ঐ প্রশিক্ষণ গ্রহণ তথা নামায, রোযা প-শ্রম। (২) মানুষকে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিতে হবে। এ কথার মধ্যে আসতে হবে যে, আমি জীবনের কোনো ক্ষেত্রে যেখানে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কোনো হুকুম আছে সেখানে আর কারো কোনো হুকুম মানবো না। তওহীদের মর্মার্থ হচ্ছে- সর্ববিষয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন করা। যে মিথ্যার পক্ষ নিয়ে জীবন অতিবাহিত করে, যে সমাজ, দেশ এবং এই বিশ্বের সংকট দূর করতে ভূমিকা রাখে না সে যতই নামাজ-রোযা করুক আল্লাহ তা গ্রহণ করবেন না। তাই আল্লাহর রসুল, তাঁর সাহাবীগণসহ সকল ধর্মের অবতার এবং মহামানবদের জীবনে দেখি শান্তিময় বাসযোগ্য সমাজ গঠনে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস। কিন্তু আজকের সমাজে যে যত বড় ধার্মিক ও আলেম সে তত ভীরু, তারা সমাজের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে নিজের স্বার্থের কথা ভেবে চুপ করে থাকেন। তাদের এ নীরবতা সকল অন্যায়ের চেয়ে বড় অন্যায়। যাদের জ্ঞান বা সম্পদ মানবতার কল্যাণে কাজে লাগে না, ঐ জ্ঞানী বা সম্পদশালীকে আল্লাহরও প্রয়োজন নেই।

একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ অন্তর ভোট দিয়েই জনগণ ভাবছে তাদের দায়িত্ব শেষ। তারা চোখের সামনে অপরাধ হতে দেখলেও ভাবেন, ‘এগুলো দেখার দায়িত্ব তো কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।’ এই ভাবনাটা স্বার্থপরতা। আজকে আমাদের যে জাতীয় সংকট, রাজনীতিক ও সামাজিক অশান্তি, তা এই আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতার ফল, যার জন্য দায়ী ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা হারিয়ে যাওয়া এবং পশ্চিমা সভ্যতার চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থা, জীবনব্যবস্থা ও সংস্কৃতি। এই ব্যবস্থায় জাতির মধ্যে রাজনীতিক অনৈক্য ও স্বার্থের লড়াই চলবেই। সেই দাঙ্গা-হাঙ্গামা নিরসন করার জন্য কেবল শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু জঙ্গিবাদ, অপ-রাজনীতিক সহিংসতা ইত্যাদিকে শুধু শক্তি প্রয়োগে নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোও বল প্রয়োগ করে এই দাঙ্গাবাজ তথা জঙ্গিদেরকে নির্মূল করতে পারে নি, বরং আরো দিন দিন তাদের উগ্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য প্রয়োজন শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি একটি বিকল্প নির্ভুল ও সঠিক আদর্শ যা দ্বারা ঐ জঙ্গিবাদীদের ধ্যান-ধারণাকে ভুল প্রমাণ করা। ফলে সাধারণ মানুষ ধর্ম-অধর্ম, সত্য-মিথ্যা ও ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপণ করতে পারবে। তখন ইসলামের নাম দিয়ে জাতির ক্ষতি হয় এমন কাজ কেউ করবে না, করার চেষ্টা করলে অন্যরাই তা প্রতিহত করবে।

সেই নির্ভুল ও সঠিক আদর্শ আমাদের কাছে আছে এবং আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি তা সর্বস্তরের মানুষের সামনে তুলে ধরতে। এ কাজে আমাদের কোনো আর্থিক বা রাজনীতিক স্বার্থ নেই। এ দেশের মাটিতে আমাদের জন্ম, এখানকার আলো-বাতাসে আমরা বড় হয়েছি, এ দেশের কল্যাণে কাজ করা আমাদের সামাজিক, মানবিক ও ঈমানী দায়িত্ব এবং এবাদত। আমরা মনে করি, রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়া যেমন সওয়াবের কাজ, তেমনি মানুষ যেন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে, নির্ভয়ে পথ চলতে পারে এমন অবস্থা সৃষ্টির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করাও মহত্তম এবাদত। এই এবাদত না করে যতই ব্যক্তিগত উপাসনা করা হোক সেটা আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে না। স্বার্থপরের নামাজ নাই, সমাজ নাই, তার জন্য জান্নাতও নাই। যারা শুধু নিজের সুখ-শান্তির কথা ভাবে, অন্য মানুষের শান্তি-অশান্তি নিয়ে চিন্তা করে না, তারা তো পশুর জীবন যাপন করছে, তাদের মানব হয়ে জন্ম নেওয়াই ব্যর্থ। পশুরাও তাদের মতই খায়-দায়, সন্তান জন্ম দেয়, মারা যায়, অন্যের চিন্তা করতে পারে না।

মানবসমাজ একটি দেহের ন্যায়। মানবদেহে রোগ হলে যেমন চিকিৎসা নিতে হয়, তেমনি সমাজদেহে যখন রোগ হয়, তারও চিকিৎসা করতে হয়। অন্যথায় সমাজের মৃত্যু হয়, তখন সমাজের কারোরই কোনো অধিকার থাকে না। তাই সমাজদেহকে সুস্থ করার জন্য সমাজের সকলেরই দায়িত্ব রয়েছে। আজ আমাদের সমাজ যে বহুমাত্রিক সংকটে বিপন্ন তার একমাত্র সমাধান- ধর্মের অপব্যবহার ও স্বার্থের রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদেরকে বুঝতে হবে, ধর্মের বা এলেমের যেমন বিনিময় নেওয়া হারাম, তেমনি জনসেবার নামে স্বার্থ হাসিল করাও প্রতারণা সুতরাং হারাম। তাই বাঁচতে হলে ধর্ম ও রাজনীতি উভয়ই হতে হবে নিঃস্বার্থভাবে শুধুই মানুষের শান্তির জন্য।

প্রিয় দেশবাসীর প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনারা ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, লিবিয়া ইত্যাদি দেশের সম্ভ্রান্ত মানুষগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করুন। দেখুন তারা আজ কী সীমাহীন কষ্টভোগ করছেন, সব হারিয়ে তারা শরণার্থী শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। কারণ তারা ছিলেন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, স্বার্থের রাজনীতি আর বিকৃত ধর্মের দানবদের অন্যায়কে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দেন নি। এখন সে অন্যায় তাদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়েছে, তাদের লক্ষ লক্ষ মানুষ নির্মম মৃত্যুর শিকার হয়েছে। আমাদের দেশেও ৯০% মানুষ পরিচয়সূত্রে মুসলমান। এখানেও দীর্ঘদিন থেকে ধর্মের নামে একটি জঙ্গিবাদী ইস্যু সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চলছে, যা বিভিন্ন সময় প্রকট আকার নিয়ে দেশে অচলাবস্থা ও আতঙ্কময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এখনও আমরা বাঁচতে পারি যদি আমরা অনৈক্য ও দলাদলি ভুলে এক জাতি এক দেশ- ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। ঐক্যের চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই। যে জাতি নিজেদের মধ্যে হানাহানি, বিভেদ-বিভক্তিতে লিপ্ত থাকে সে জাতির পতন হবেই, আজ নয়তো কাল। তাই আসুন, আর দেরি নয়, আমরা এই ষোল কোটি মানুষ ন্যায়ের পক্ষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি। তাহলে আমরা কেবল নিজেরাই বাঁচব না, ইনশা’আল্লাহ আমরাই হব পৃথিবীর সকল দেশের সামনে শান্তি প্রতিষ্ঠার নিদর্শন।

 

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ