‘প্রভু! এই লা’নত প্রত্যাহার করো, আমাদের ক্ষমা করো’

হে আমার প্রভু আল্লাহ রাব্বুল আলামিন!
তুমি আমাদের ক্ষমা করো। তুমি যে অনিন্দ্য সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টি করেছ এবং তার অসংখ্য নেয়ামতরাজি ভোগ করার জন্য তুমি যে আদম সৃষ্টি করেছ, যাঁকে তুমি পরম মমতায় নিজ হাতে বানিয়েছ, যার ভেতরে তোমার পবিত্র রূহ প্রবেশ করিয়ে তোমারই প্রতিনিধি করেছ, আসমান জমিনের প্রত্যেকটি সৃষ্টি যাদের প্রয়োজন পূরণ করে যাচ্ছে সেই আদম সন্তানেরা আজ নিজেরা নিজেরা মারামারি, কাটাকাটি, রক্তপাত, শত্রুতা, যুদ্ধ-মহাযুদ্ধে লিপ্ত। তারা এক পিতামাতার সন্তান হয়েও সে পরিচয় ভুলে বিভিন্ন জাতিতে, বর্ণে, গোত্রে, ভৌগোলিক ভূখণ্ডে  বিভক্ত হয়ে হানাহানি করে যাচ্ছে। আজ ভাই ভাইকে হত্যা করছে, বোনকে ধর্ষণ করছে, একে অপরকে না খাইয়ে মারছে, বাস্তুভিটা থেকে বের করে দিচ্ছে, বোমা মেরে জনপদ ধ্বংস করে দিচ্ছে। কে তাদেরকে এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে লিপ্ত করল, কে তাদের আসল পরিচয় ভুলিয়ে দিল? এটা তো সেই মহাপ্রতারক শয়তান ইবলিস যা তাদের পিতামাতাকেও জান্নাতের সুখসম্ভোগ ছেড়ে এই পৃথিবীতে আসতে বাধ্য করেছে। তারা ইতিহাস ভুলে গেছে। আমরা মানবজাতিকে সেই ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন!
আদম সৃষ্টির শুরুতে তোমার সাথে ইবলিসের যে চ্যালেঞ্জ হয়েছিল সেখানে সে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে, তোমার দেওয়া সরল পথ থেকে সে মানুষকে বিচ্যুত করবে। ফলে তারা রক্তপাত, অশান্তির মধ্যে পড়বে। এটা যেন সে করতে না পারে সেজন্য তুমি যুগে যুগে তোমার নবী-রসুলদের মাধ্যমে মানবজাতিকে সরল পথ পাঠিয়েছ, তোমার হুকুমকে ধারণ করতে বলেছ। কিন্তু মানুষ সেই সরল পথকে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অশান্তিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এভাবে নবী-রসুলগণের আগমনের ধারাবাহিকতায় শেষ নবী মোহাম্মদ (সা.) কে পাঠিয়েছ, যাঁর স্থান তুমি মাকামে মাহমুদায় নির্দিষ্ট করেছ, যাঁর উপাধি তুমি দিয়েছ রাহমাতাল্লিল আলামিন। সেই মহামানব ও তাঁর উম্মাহ আমৃত্যু অক্লান্ত পরিশ্রম করে, পেটে পাথর বেঁধে, গাছের লতাপাতা খেয়ে, নিজেদের বাড়িঘর তোমার রাস্তায় উৎসর্গ করে দিয়ে অর্ধেক দুনিয়ায় সত্যদীন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। বাকি দুনিয়ায় তোমার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ছিল এই উম্মতেরই। কিন্তু ইবলিসের প্ররোচনায় তারা সেই দায়িত্ব ভুলে যায়। ফলে তারা আবারও সীমাহীন অশান্তিতে নিমজ্জিত হয়।
হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন!
মানবজাতি তোমার সার্বভৌমত্ব পরিত্যাগ করে এক আত্মাহীন বস্তুবাদী দাজ্জালীয় সভ্যতার জন্ম দিয়েছে। এ সভ্যতার তৈরি পারমাণবিক অস্ত্র, হাইড্রোজেন বোমা ইত্যাদি সুন্দর এই ধরণীকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। সমগ্র মানবজাতি এই অপশক্তির সামনে আত্মসমর্পণ করেছে। এমন কি যাদেরকে তুমি শ্রেষ্ঠ জাতি বলেছ, যাদেরকে তুমি তোমার শেষ কেতাব দিয়ে ধন্য করেছ, মহানবীর মতো একজন মহাপুরুষকে আদর্শ বানিয়েছ এবং যাদের নিজেদের থাকার কথা শান্তিতে এবং অন্যদেরকেও যাদের শান্তি দেওয়ার অঙ্গীকার ছিল, সেই মুসলিমরাই গত কয়েক শতাব্দী ইউরোপের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগুলোর দাস হয়ে তাদের পায়ের তলায় গড়াগড়ি খেয়েছে। তারা আজ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর ভয়ে আতঙ্কে ¤্রয়িমান হয়ে আছে এবং পৃথিবী জোড়া লাঞ্ছিত অপমানিত হচ্ছে। কেন তাদের এ নিদারুণ দুর্দশা, এর জবাবও আমরা জাতিকে দিয়ে যাচ্ছি। কে বুঝবে, আর কে বুঝবে না সে হিসাব তোমার কাছে রয়েছে। সত্য বোঝার পর আমাদের দায়িত্ব ছিল স্পষ্টভাবে পৌঁছিয়ে দেওয়া। আমরা আমাদের ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়োগ করে সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যে আলেমদের দায়িত্ব ছিল এ জাতিকে পথ দেখানো, যারা নিজেদেরকে নায়েবে নবী বলে দাবি করেন, সেই আলেমরা নিজেরাই নানা ফেরকা-মাজহাবে বিভক্ত। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে মাসলা মাসায়েলের জালে আটকে আছেন তারা। আর তাদের অধিকাংশই এখন তোমার দীনকে জীবিকার উপায় হিসাবে গ্রহণ করেছেন। যে ধর্মব্যবসাকে তুমি হারাম করে দিয়েছ তারা তাতেই ডুবে আছে। তারা দেখছেন না যে তোমার সমগ্র কেতাবজুড়ে তুমি যাবতীয় অঙ্গীকার করেছ মো’মেনদের জন্য। গোনাহর ক্ষমা, পৃথিবীর কর্তৃত্ব ও বিজয় দান, ভয়ভীতি দূর করা, সাহায্য করা এবং পরকালে জান্নাতের অঙ্গীকার সমস্ত কিছুই কেবল মোমেনদের জন্য। সেই মোমেন হওয়ার চেষ্টা না করে কে কতবড় মুফতি, কতবড় মুফাসসির, কত বড় বুজুর্গ হতে পারে সে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কিন্তু তোমার রসুল সেই নিরক্ষর জাতিকে কেবল মোমেন করেছিলেন। ফলে তোমার অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন সেখানে ঘটেছিল, তারা হয়েছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি। এ মহাসত্যটি বর্তমানের সকলকে তাড়াতাড়ি বোঝার তওফিক দাও। সময় আর বেশি বাকি নেই, প্রভু।
আমরা তোমার এক প্রিয় বান্দার মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পন্থা খুঁজে পেয়েছি এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি, তাও তুমি দেখতে পাচ্ছ। তুমি তো সামিউম বাসির, সব দেখ, সব শোনো। তুমি অন্তর্যামী, বিজাতিস সুদুর, লতিফুল খাবির, সূক্ষ্ম হিসাবদর্শী, কার অন্তরে কী রয়েছে, কে কোন্ উদ্দেশ্যে কী আমল করছে সব সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে তুমি জানো।
হে আমাদের প্রভু!
তোমার দেওয়া সেরাতুল মোস্তাকিম ত্যাগ করে সেই ‘উম্মতে মোহাম্মদী’ দাবিদার জাতি আজ শিয়া সুন্নী, হানাফি-হাম্বলি, পুঁজিবাদী, সাম্যবাদী, গণতান্ত্রিক ইত্যাদি মতবাদের ভিত্তিতে শত সহস্রভাগে বিভক্ত। তারা আর এক জাতি নেই, তাদের এক নেতা নেই, এক লক্ষ্য নেই, এক কর্মসূচি নেই। তারা যার যার মাজহাব নিয়ে অহঙ্কারে স্ফীত হয়ে সহস্র বিভাজনের প্রাচীর নির্মাণ করে রেখেছে। অথচ তুমিই প্রাকৃতিক নিয়ম সৃষ্টি করে রেখেছ যে, ঐক্যবদ্ধ শক্তিই সর্বদা বিজয়ী হবে। এ কারণে তুমি তোমার কেতাবে বহুবার বলেছ এ জাতিটিও যেন সেই প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে সীসাগলানো প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হয়। কিন্তু তারা সে কথা শোনে নি, তারা যত পারা যায় বিভক্ত হয়েছে। এটা তোমার রসুল বলে গেছেন যে, তারা তেহাত্তর ভাগে বিভক্ত হবে। সেটা তারা হয়েছে। তাদের এই মার খাওয়ার কারণ যে বিভক্তি সেটা বুঝতে পারছে না। তারা শুধু বিভক্তই হয় নি, তারা তোমার দেওয়া জীবনব্যবস্থা ত্যাগ করেছে বহু আগেই। তারা এখন ইবলিসের প্রতারণায় পড়ে পাশ্চাত্য সভ্যতার জীবনদর্শন, সমাজদর্শন, শিক্ষা,
সংস্কৃতি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছুকে অন্ধভাবে অনুকরণ করে যাচ্ছে। তারা কঠোর পরিশ্রম করে বহু আমল করে যাচ্ছে কিন্তু তুমি যে তাদের আমলের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করছ না সেটা বোঝার শক্তিও তাদের নেই। নিদারুণ অজ্ঞতায় নিমজ্জিত থাকার দরুন তারা বুঝতে পারছে না যে তওহীদ না থাকলে তাদের ঈমানবিহীন কোনো আমলই তুমি কবুল করবে না। তারা সেই তওহীদ ত্যাগ করেছে কয়েক শতাব্দী আগেই। তাদের জীবনব্যবস্থার ভিত্তি আর তোমার হুকুম নয়, পাশ্চাত্য সভ্যতার দর্শন। আর তুমি বলেছিলে তোমার রাস্তায় সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ত্যাগ করলে তাদের নামই তুমি মো’মেনের খাতা থেকে কেটে দেবে। সেই সংগ্রাম তারা ১৩শ’ বছর আগেই ত্যাগ করেছে। ফলে তুমিও তাদেরকে ত্যাগ করেছ এবং তাদের উপর তোমার ক্রোধে অগ্নি বর্ষিত হচ্ছে। যার অভিভাবকত্ব তুমি ত্যাগ করো, পৃথিবীতে তাদের লাঞ্ছনা ভোগ করা ছাড়া আর কোনো গতি থাকে না। অথচ অজ্ঞানতার গহ্বরে বসে এখন তারা পরিমাপ করছে যে, কার দাড়ি কতটুকু লম্বা, কার আরবি উচ্চারণ মাখরাজসম্মত, কে কত হাজার হাদিস জানে ইত্যাদি। এসব কিছুর কোনো মূল্য যে আর তোমার কাছে নেই, সেটা এখন কে তাদেরকে বোঝাবে? তুমি তো আর নবী-রসুল পাঠাবে না, কারণ শেষ নবী তো পথ দিয়েই গেছেন, পথে উঠিয়েও দিয়ে গেছেন। তাহলে কি এভাবেই ধ্বংস হয়ে যাবে মুসলিমরা, এভাবেই ধ্বংস হয়ে যাবে মানবজাতি?
হে রাব্বুল আলামিন!
আমরা অতি নগণ্য গোনাহগার বান্দা হয়েও সেই আখেরি নবীর উম্মত হিসাবে সেই সত্য প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি। তোমার দেওয়া তওহীদের ভিত্তিতে আমরা মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান করছি, এই পথে নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছি। যাদের কল্যাণার্থে আমাদের সর্বস্ব আমরা উৎসর্গ করেছি তারাই যখন আমাদের হত্যা করে, বাড়িঘরে আগুন দেয়, আহত ও বিকলাঙ্গ করে, বাস্তুচ্যুত করে, তখন দুঃখ রাখার জায়গা থাকে না। তবুও আমরা হতাশ হই না, নিরাশ হই না। কারণ আমরা জানি আজ যারা আমাদের ভুল বুঝছে ইনশাল্লাহ একদিন তাদের ভুল ভাঙবে। এই সত্য প্রচার করতে গিয়েও তোমার রসুলের উপরও অসহনীয় নির্যাতন হয়েছে আর আমরা তো তাঁর উম্মত মাত্র।
কিন্তু যাদের কাছে আমরা এ মুক্তির পথ, ঐক্যের ডাক নিয়ে যাচ্ছি তাদের অল্পকিছু সত্যনিষ্ঠ লোক বাদে নিজেদেরকে নিয়েই ব্যস্ত, দেশ-জাতি নিয়ে একটুও চিন্তা করার কোনো অবকাশ তারা পায় না। আমরা আকুলভাবে চাই, তুমি তাদেরকে বিশ্বপরিস্থিতি বোঝার তওফিক দাও, সংকটের গুরুত্ব, ভয়াবহতা উপলব্ধি করার তওফিক দাও এবং সংকট থেকে উদ্ধারের পথ চেনার তওফিক দাও। তাদের হৃদয়কে উন্মুক্ত করে দাও। তাদের বুদ্ধির জড়তা মোচন করো, তাদের শ্রবণশক্তি দাও যেন তারা সত্যের আহ্বান শ্রবণ করতে পারে। তাদেরকে বিবেকের দুয়ার খুলে দাও যেন তারা সত্য ও মিথ্যা, আসল আর নকলের তফাৎ করতে পারে। আমরা গত ১৩শ’ বছরে সীমাহীন ভুল করেছি যার পরিণাম এখন আমরা ভোগ করে চলেছি। আমরা বুঝতে পেরেছি কোন্ ভুলের দণ্ড আমরা লাভ করেছি। আমরা তোমার নিকট ক্ষমা চাই, আমাদেরকে ক্ষমা করো। তুমি বলেছ তুমি গাফুরুর রহিম, তুমি প্রেমময় ক্ষমাশীল, তুমি গাফুরুন ওয়াদুদ। তোমার কেতাবকে বিশ্বাস করি, তোমার রসুলকে বিশ্বাস করি, অন্তত এটুকুর অসিলায় তুমি আমাদেরকে ক্ষমা করো। আমাদের চোখের সামনে নিজেদের আপনজনেরা এভাবে বিনাশ হবে, সে দৃশ্য আর আমরা দেখতে চাই না। তুমি তোমার কেতাবের মাধ্যমে জানিয়েছ যাদের দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা, তাদের পরকালেও ভয়াবহ শাস্তি অবধারিত। তুমি যদি আমাদেরকে দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনা দূর না করে দাও তাহলে পরকালে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো? আমরা তোমার সেরাতুল মোস্তাকীমের সন্ধান পেয়েছি, যে পথ হারিয়ে গিয়েছিল সেই পথ আবার তুমি দয়া করে আমাদেরকে দান করেছ। এখন বাকিদেরকেও আমরা সেটা বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের এই প্রচেষ্টা কবুল করো।
হে প্রভু!
অবিশ্বাসের এ যুগে অনেকেই এটা বুঝতে সক্ষম হচ্ছে না যে, আমরা নিঃস্বার্থভাবে তাদের মুক্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছি, অনেকে ভুল বুঝছেন। হে পরম করুণাময়, তাদের এই ভুল তুমি ভেঙে দাও, তাদের হৃদয় সত্যের প্রতি অনুকূল করে দাও। এ জাতির উপর থেকে তোমার অভিশাপ, গজব, লানত প্রত্যাহার করো। আমরা যারা তওহীদের উপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছি তুমি আমাদেরকে সবর দান করো। আমরা পাহাড়সমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শত্রু দাজ্জালের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। আমাদের পদযুগলকে তুমি দৃঢ় রাখ। কোনো অপশক্তির কাছে যেন আমরা মাথা নত না করি। আমাদের লক্ষ্য স্থির রাখ। আমরা তোমার করুণা আর দয়ার প্রত্যাশী।
আল্লাহুম্মা আমীন।

লেখক: মাননীয় এমাম, হেযবুত তওহীদ।

যোগাযোগ:
০১৭১১০০৫০২৫, ০১৯৩৩৭৬৭৭২৫
০১৭৮২১৮৮২৩৭, ০১৬৭০১৭৪৬৪৩

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ