আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ: তাদের নিশানা ইসলামের দিকে!

আলী হোসেন

আজকে আমাদের দেশের প্রত্যেকটা নাগরিককে দেশ ও সমাজকে নিয়ে ভাবতে হবে। আমাদেরকে আর ক্ষুদ্রস্বার্থে, ব্যক্তিচিন্তায় বুঁদ হয়ে থাকলে চলবে না। আমাদের মিডিয়া, বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও পশ্চিমা সংস্কৃতি, রোজগারমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, আমাদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংকীর্ণ ধর্ম, ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা ধর্মের নামে অধর্ম ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক আমাদের দৃষ্টিকে এতটাই নিুমুখী, ক্ষুদ্র ও হীন করে রেখেছে যে, আমরা কিছুতেই ব্যক্তির গণ্ডির বাইরে চিন্তাও করতে পারছি না। আমরা চোখ তুলে তাকাই না বিশ্বে কী হচ্ছে, বিশ্বে কী তুমুল কাণ্ড ঘটে চলেছে, কী ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেখানে। সেই পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে কিনা, এ পরিস্থিতি দ্বারা আমরা আক্রান্ত হতে পারি কিনা, তা আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে কিনা, যদি সৃষ্টি হয় তখন আমাদের কী করণীয়, আমাদের পূর্ব প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে কিনা, কোন কোন ক্ষেত্রে তা প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমাদের শ্রমিকশ্রেণী থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ প্রত্যেকের ভাবার আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা তা নিয়ে ভাবি না। সেটা যে আমার ভাবনার বিষয়বস্তু হতে পারে সেটাও আমাদের জ্ঞানে আসে না। অচৈতন্যকে, অসচেতনতাকে আমরা আমাদের জাতীয় বৈশিষ্ট্য বানিয়ে নিয়েছি। আমরা ভাবি ওসব ভাবার জন্য সরকার আছে, বড় বড় মাথাওয়ালা বুদ্ধিজীবী আছে, এরা আছে, তারা আছে। আমি একজন ভুক্তভোগী হয়েও নিষ্পৃহ নির্বিকার দর্শকমাত্র। নির্বিকার থাকাই আমাদের শেখানো হয়েছে ঠিক যেমন চিড়িয়াখানার বাঘটি দীর্ঘ বন্দীদশায় একসময় নির্বিকার হয়ে যায়। আমাদেরকে মিডিয়াগুলো পৌরসভার মেয়র নির্বাচন নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে, ক্রিকেট খেলা নিয়ে, লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। আমাদের সকল জাতীয় চেতনার সমাধি ঘটানো হয় অপ্রয়োজনীয়, অর্থহীন ঘটনাবলীর চোরাবালিতে। এই যে অসার বিষয় নিয়ে মগ্ন করে রাখার প্রয়াস, এটা একটি বিরাট আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, তা হচ্ছে আমাদেরকে জাতীয়ভাবে কূপমণ্ডূকতা, কুয়োর ব্যাঙ করে রাখা। এ ষড়যন্ত্র চলছে সেই ঔপনিবেশিক যুগ থেকে দু’টি সমান্তরাল শিক্ষাব্যবস্থার নামে।
১৫ কোটি মুসলমান এই দেশে বাস করে। এই বিরাট জনগোষ্ঠীর কত ভাগ মানুষ এটা অনুধাবন করতে পারছি যে, ইসলাম তথা মুসলমানদের দিকেই বন্দুক তাক করা হয়েছে, লাইন অব ফায়ারে বাংলাদেশও আছে। রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রের পতনের পর পশ্চিমা বিশ্ব তাদের আধিপত্যকে নিরঙ্কুশ করার জন্য প্রতিপক্ষ হিসাবে গ্রহণ করেছে ইসলামকে। এই লক্ষ্যেই তালেবান, আল কায়েদা, আই.এস, বোকো হারাম ইত্যাদি দলের উদ্ভব ঘটিয়ে, রাজনীতিক দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিয়ে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস দমন, মানবাধিকার ইত্যাদি অজুহাত ধরে একের পর এক ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়ামেন ইত্যাদি দেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হলো। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে সৃষ্টি করা হলো আরব বসন্ত, যার আদলে যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও ধর্ম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে আমাদের দেশেও সৃষ্টি করা হয়েছে যথাক্রমে শাহবাগ ও শাপলা চত্বরের আন্দোলন। এগুলোর ধারাবাহিকতায় ও রাজনীতিক দ্বন্দ্বের পরিণামে আমাদের দেশে বার বার গৃহযুদ্ধের আবহ সৃষ্টি হয়েছে যা কোনোরকমে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। সারা দুনিয়ায় শতমুখী প্রোপাগান্ডা চালিয়ে ইসলামকে সন্ত্রাসের ধর্ম, আল্লাহর রসুলকে সন্ত্রাসী নবী বলে প্রতিষ্ঠা করে ফেলা হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে আবার চলে প্রতিশোধপরায়ণদের জঙ্গি তৎপরতা। বিশ্বময় যতগুলো মুসলিমপ্রধান দেশ আছে প্রায় প্রতিটি দেশেই জঙ্গি কর্মকাণ্ড ঘটছে। তাদেরকে দমন করতে জোরদার করা হচ্ছে আইন, কেনা হচ্ছে নতুন নতুন অস্ত্র, তৈরি করা হচ্ছে নতুন নতুন নামের বাহিনী। পশ্চিমারা জঙ্গি দমনের অজুহাতে যে কোনো দেশে যে কোনো সময় প্রবেশ করতে পারে, হামলা চালাতে পারে। ঐ দেশের সরকারের অনুমতি বা প্রটোকল রক্ষার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করে না, যে কোনো ছুতানাতা পেলে একটি দেশের উপর অবরোধ আরোপ করতে পারে, নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। আমাদের ভাগ্যে এ জাতীয় কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা সেটা আমাদেরকে ভেবে দেখা উচিত। এটা ১৬ কোটি মানুষের জীবনের ও তাদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিষয়। কেননা একটি দেশে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার চিকিৎসার জন্য পশ্চিমারা ডাক্তার সেজে ওষুধ নিয়ে উড়ে আসেন সেই পরিস্থিতি যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে এই ১৬ কোটি মানুষকেই। কেবল সরকারের পক্ষে সেটা সম্ভব হবে না। যে দেশে জনগণের মধ্যে ঐক্য নেই সেখানে কোনো সরকারই তা করতে পারবে না। তার প্রতিটি সৎ উদ্যোগ পদে পদে বিঘ্নিত হবে।
আমাদের দেশের ৯০% মুসলমান, এর মধ্যে মাদ্রাসার লক্ষ লক্ষ ছাত্র আছে, এখানে প্রভাবশালী ইসলামী দল আছে যারা ক্ষমতার অংশীদার হয়েছেন, লক্ষ লক্ষ তরুণ সমাজ আছে যারা ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত, তারা এতটাই উজ্জীবিত যে তাদের চেতনাকে ভুল পথে চালিতে করে বার বার দেশের অর্থনীতির চরম ক্ষতি করেছে, শত শত মানুষ হত্যা করা হয়েছে, অর্থাৎ ধর্ম চেতনা এখানে প্রবল। এখানে নাস্তিকতাবাদের ইস্যু নিয়ে বার বার রাজপথ প্রকম্পিত করে লক্ষ লক্ষ লোক বের হয়ে এসে বিক্ষোভ করেছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতিক দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে নাস্তিকতার অভিযোগ আরোপ করে, কুফর শক্তির উৎখাতের নামে জনরোষ ও জনবিক্ষোভ সৃষ্টির প্রচেষ্টা করে থাকে। একেও জঙ্গিবাদ আখ্যা দিয়ে আমাদের দেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র বলে চিহ্নিত করে থাকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন। এই অসন্তোষকে প্রতিহত করার জন্য বিদেশিদের পাঁয়তারার কোনো কমতি নেই। কিছুদিন আগে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সন্ত্রাস দমনে দৃঢ়তার জন্য সাধুবাদ জানিয়ে গেছেন যার মাধ্যমে তিনি এটাও প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন যে এদেশে সন্ত্রাসবাদের অস্তিত্ব ব্যাপক হারে আছে। সুতরাং যে কোনো সময়ে এখানে একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কি করণীয় এ বিষয়টা নিয়ে আমাদের খুব ভাবতে হবে। এ পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হতে পারে সেজন্য ষোল কোটি মানুষকে প্রণোদিত (Motivate) করতে হবে। আমাদেরকে বুঝতে হবে, একদল মাদক ব্যবসায়ীর যেমন মানুষের ক্ষতি বা উপকার নিয়ে চিন্তা থাকে না, তারা কেবল মাদকদ্রব্য বিক্রি করতেই সচেষ্ট থাকে তেমনি আন্তর্জাতিক অস্ত্রব্যবসাকে যারা নিজেদের অর্থনীতির ভিত্তি বানিয়ে নিয়েছে তারা কেবল অস্ত্রই বিক্রি করতে সচেষ্ট আছে। অস্ত্রের প্রয়োগ হয় রণাঙ্গনে, তাই তারা সারা বিশ্বেই রণাঙ্গন সৃষ্টি করতে চায়। তাদের শান্তির প্রয়োজন নেই, শান্তি তাদের দু চোখের বিষ। তারা চায় যুদ্ধ, দাঙ্গা, গোলোযোগ। মানুষ বাঁচল কি মরল তা নিয়ে তাদের চিন্তা নেই, পৃথিবীতে এমনিই জনসংখ্যা সমস্যা বিকট দানবের আকৃতি নিয়ে মানবজাতিকে ভয়াবহ সংকটে নিক্ষেপ করেছে। যুদ্ধ সৃষ্টি করে যদি এই জনসংখ্যা থেকে একশ ষাট কোটি মানুষও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় তাতে তেমন ইতরবিশেষ তারতম্য হবে না, বরং এতে তাদের লাভই হবে। তাদের একাধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, তাদের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, আরো বেশি ভোগবিলাসে জীবনযাপন করবে। কাজেই আমাদেরকে এখন ভাবতে হবে। জনগণকে এই ভাবনা কেউ ভাবায় না, না রাজনীতিকগণ, না মিডিয়া। রাজনীতিকগণ তো প্রতিপক্ষের বিদ্বেষগান ছাড়া আর কিছুই করতে পারেন না। ভাঙ্গা রেকর্ডের মতো একই কথা তারা যুগের পর যুগ বলে যাচ্ছেন, অমুক দেশের শত্র“, আমিই দেশের বাবা-মা। এমতাবস্থায় জাতির জন্য একটু ভাবার জন্য হেযবুত তওহীদ কড়া নাড়ছে প্রত্যেকের মনের দরজায়, ঘরের দরজায়। আমরা জনগণের কাছে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই, “আমাদের দেশে দেশপ্রেমিক দাবিদার অসংখ্য। কিন্তু এমন কোনো দেশপ্রেমিক কি আপনারা দেখেছেন যারা সত্যিই জনগণের কল্যাণ অকল্যাণ নিয়ে চিন্তা করেন? নাকি তারা স্বার্থচিন্তায় মগ্ন?” এর উত্তর কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, দেশপ্রেম ও ধর্মের নামে স্বার্থহাসিল সবচেয়ে বড় অধর্ম। এটা সাধারণ জ্ঞান যে, রাজার অধর্ম আর প্রজার অধর্ম সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। সিরিয়াতে বাশার আল আসাদ তার ক্ষমতার মোহে এতটাই মুগ্ধ ছিলেন যে দেশের এই পরিণতি তিনি কস্মিনকালেও ভাবতে পারেন নি। তিনি বিরুদ্ধপক্ষের বিরুদ্ধে দমন পীড়ন চালিয়েছেন। জনগণও দর্শকের ভূমিকায় বসে নাটক দেখেছে। তারা সচেতন হয় নি। আজ সেই হাজার হাজার বছরের সিরিয়া যাকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল বহু সভ্যতা ও ইতিহাস, সেই সিরিয়া মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সেই জনগণের থেকেই আড়াই লক্ষ মানুষ মাটির সাথে মিশে গেছে। আর বাকি বিশ লক্ষ নিজেদের আরবিয়
কায়দার ভোগবিলাসপূর্ণ জীবন ফেলে মরুভূমির উত্তপ্ত বালুর মধ্যে শরণার্থী শিবিরে থেকে পার্শ্ববর্তী দেশের করুণা ভিক্ষা করছেন। তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য, মসজিদ, মাজার, মাদ্রাসা, শহর সব বিরান হয়ে গেছে। ঠিকানা পর্যন্ত মুছে ফেলা হয়েছে। ইরাকে নিহত হয়েছে ১০ লক্ষাধিক মানুষ। আজ সময় এসেছে আমাদের নিজেদেরকে নিয়ে চিন্তা করার। আমরাও কি এই তালিকায় যুক্ত হবো?
আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ যেমন সমগ্র সৃষ্টি জগৎকে প্রতিপালন করেন, আমাদের দায়িত্ব এই মানবজাতির শান্তিরক্ষা ও প্রতিপালন। পৃথিবীর দূরতম প্রান্তেও কোনো মানুষ যদি কষ্ট পায় সেটা নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে। তার কষ্ট আমাদের হৃদয়েও দোলা দেবে। এই অনুভূতি যার নেই সে আকৃতিতে মানুষ হলেও মানুষের ধর্ম থেকে সে বিচ্যুত, সে ধর্মহীন, কাফের। যারা ব্যক্তিগত ধর্মপালনের মাধ্যমে কোনো রকমে দুনিয়া থেকে পালিয়ে জান্নাতে চলে যেতে চান, তাদের জন্য বলছি। জান্নাতে যেতে হলে ধর্মকর্ম করার আগে মো’মেন হতে হবে। যে সমাজে মানুষ অন্যায় অশান্তির মধ্যে বাস করে সেখানে কারো কোনো ধর্মকর্ম কবুল হয় না। সেখানে আসল ধর্ম হচ্ছে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। এর চেয়ে বড় দেশপ্রেম নেই, এর চেয়ে বড় ধর্মও নেই।
আমাদের রাজনীতিক নেত-নেত্রীদের মধ্যে একটি বড় অংশ আছেন যারা বিভিন্ন মামলার ভারে জর্জরিত, অথবা ক্ষমতার ভোগে ব্যস্ত। দেশে কোনো চূড়ান্ত দুর্যোগ হানা দিলে তারা আগে থেকেই পাসপোর্ট, ভিসা তৈরি করে রেখেছেন চম্পট দেওয়ার জন্য, যেভাবে চম্পট দিয়েছিলেন তিউনিশিয়ার বেল আলী। কিন্তু পালিয়ে গিয়েও শান্তি পাবেন না, কারণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশও এখন মন্দাক্রান্ত্র, বিপর্যস্ত, অধঃপতিত। কাজেই এখন একটিই উপায়, ১৯৭১ সনে লক্ষ লক্ষ প্রাণের চরম ত্যাগ ও কোরবানির বিনিময়ে যে ভূখণ্ডটি মহান আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন, নিজের মাতৃভূমি সেই মাতৃভূমিকে আগে টেকসই শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। নিজেদের মধ্যেকার সব কোন্দল, রেষারেষি মিটিয়ে ষোল কোটি মানুষের সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, যেন কেউ এ জাতির গায়ে দাঁত বসাতে না পারে।
লেখক: আমীর, হেযবুত তওহীদ, ঢাকা মহানগরী
[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, বিশেষ প্রতিবেদন ইত্যাদির বিষয়ে মতামতের জন্য ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৯৩৩৭৬৭৭২৫]

লেখাটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on skype
Skype
Share on whatsapp
WhatsApp
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ