নির্যাতনের ইতিহাস

Posted On June 23, 2017 by sayeed

হেযবুত তওহীদের সূচনালগ্ন থেকেই সমাজের ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণীটি এ আন্দোলনের বিরোধিতা আরম্ভ করে যে বিরোধিতা আজও চলমান আছে। যখন আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটল, বাংলাদেশেও তার প্রভাব দৃশ্যমান হলো। পাইকারিভাবে ইসলামপন্থী সব দলকেই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা শুরু হলো। না জেনে, না শুনে হেযবুত তওহীদের উপরও জঙ্গিবাদের অপবাদ আরোপ করল এক শ্রেণীর ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়া। এই উভয় শ্রেণীর অপপ্রচারের কারণে এ আন্দোলনের সদস্য এবং সদস্যরা প্রচ- প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পতিত হলেন। মাদ্রাসা শিক্ষিত এই আলেম শ্রেণী মসজিদে মসজিদে, ওয়াজে, খোতবায়, হাটে বাজারে প্রচার করে বেড়াতে লাগলো হেযবুত তওহীদ কাফের, খ্রিষ্টান, ইসলামবিরোধী। তাদের এসব ফতোয়া দিয়ে তারা ধর্মবিশ্বাসী মানুষদেরকে আমাদের বিরুদ্ধে প্ররোচনা আর উস্কানি দিয়ে যেতে লাগল। তারা যেহেতু ধর্মের ধারকবাহক সেজে আছে, তাই ধর্মান্ধ মানুষও তাদের কথায় ভুল বুঝে হেযবুত তওহীদের সদস্য-সদস্যাদেরকে নির্যাতন কোরতে আরম্ভ কোরল মানুষ। ১৯৯৫ সন থেকে চলমান এই নির্যাতনের ইতিহাস কতটা মর্মান্তিক, কতটা অমানবিক ও হৃদয়বিদারক তার বর্ণনা এখানে দেওয়া সম্ভব নয়। দেশের বহুস্থানে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের মেরে হাত পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে, তাদের বাড়ি ঘর ভেঙ্গে জমি জমাসহ যাবতীয় স্থাবর সম্পত্তি লুটপাট করে নেওয়া হয়েছে, আগুন দিয়ে বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বিষ দিয়ে পুকুরের মাছ মেরে ফেলা হয়। এমন কি একজন সদস্য এবং একজন সদস্যাকে পিটিয়ে হত্যা পর্যন্ত করা হয়। ২০১৬ সনের ১৪ মার্চ নোয়াখালীর সোনইমুড়িতে এ আন্দোলনের দুইজন সদস্যকে ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর উস্কানিতে প্রকাশ্য দিবালোকে জবাই করে হত্যা করা হয়, তাদের দেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসনিক হয়রানির তো কোনো সীমাপরিসীমা নেই। আজ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মিথ্যা সন্দেহপ্রসূত মামলার জালে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জড়ানো হয়েছে কিন্তু একটিতেও আমাদের কোনো সদস্য-সদস্যা অপরাধী প্রমাণিত হন নি। যার অর্থ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত হেযবুত তওহীদের দ্বারা কোনো আইনভঙ্গ বা অপরাধ সংঘটিত হয় নি। এটা হেযবুত তওহীদের একটি অনন্য গৌরব।